মার্কিন কোম্পানি থেকে ডিজিটাল কর নেয়া দেশগুলোর ওপর করারোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

কঠোর হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগও

মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগের নিয়মও কঠোর করতে পারেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের পরিধি আরো বিস্তৃত হবে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

গত শুক্রবার এসব পরিকল্পনাসংক্রান্ত একটি নথিতে স্বাক্ষর করেন দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসা ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিকে তার প্রথম মেয়াদে শুরু হওয়া ডিজিটাল পরিষেবা করসংক্রান্ত তদন্ত পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কয়েকটি দেশসহ যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক কর্তৃক আরোপিত মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত কর নিয়ে ওই তদন্ত করা হচ্ছিল। এছাড়া কানাডাসহ অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন তদন্তের বিষয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে।

নথিতে ডেনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘‌আমার প্রশাসন মার্কিন কোম্পানি, কর্মী ও অর্থনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে একপেশে ও প্রতিযোগিতাবিরোধী নীতির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেবে না।’

গত জানুয়ারিতে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন দেশ ও খাতের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন এবং তা কার্যকরও করেছেন।

ট্রাম্প এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডিজিটাল পরিষেবা করের ব্যাপারে তার দৃষ্টি রয়েছে। তিনি বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা মার্কিন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল এবং বৈশ্বিক কর ব্যবস্থা সংস্কার করতে চাইছেন।

নথি অনুযায়ী, বিদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত ট্যাক্স এবং তাদের প্রবৃদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ঝুঁকি তৈরি করা আইন বা নীতিমালা বিষয়ে তদন্ত করা হবে। এতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল পরিষেবা করের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা বসবেন এ দুই দেশের নেতারা।

নথিতে স্বাক্ষর করার আগে ট্রাম্প বলেন, ‘অন্য দেশগুলো ডিজিটাল করের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যা করছে তা ভয়াবহ।’

চীন ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করার পাশাপাশি দেশে-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে আরেকটি নথিতেও স্বাক্ষর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর বিনিয়োগের জন্য একটি ‘ফার্স্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়া তৈরি করা হবে।

নথিতে আরো বলা হয়, প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শক্তি, কাঁচামালসহ কৌশলগত খাতে চীনের বিনিয়োগ সীমিত করতে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈদেশিক বিনিয়োগবিষয়ক কমিটি সিএফআইইউএস। প্রসঙ্গত, এ কমিটি নিরাপত্তা ঝুঁকি খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ লেনদেন পরীক্ষা করে। প্রযুক্তিসহ একই ধরনের খাতে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সিএফআইইউএসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

হোয়াইট হাউজ বলেছে, তারা সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত কৃষিজমি ও রিয়েল এস্টেটকে সুরক্ষা দেবে। একই সঙ্গে ‘গ্রিনফিল্ড’ বিনিয়োগের ওপর সিএফআইইউএসের ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে। গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ হলো যখন কোনো কোম্পানি বিদেশে নতুন স্থাপনা বা অপারেশন তৈরি কিংবা সম্প্রসারণ করে।

চীনে চিপস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম ও বায়োটেকনোলজিসহ সংবেদনশীল প্রযুক্তিতে মার্কিন বিনিয়োগের ওপর নতুন বা সম্প্রসারিত বিধিনিষেধ বিবেচনা করবে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মাধ্যমে বেসামরিক সম্পদ সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চীনা কৌশল ঠেকানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, অনেক দিন ধরে চীন এ কৌশল ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে চীনা কোম্পানিগুলোকে পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে প্রযুক্তি শেয়ার করতে বাধ্য করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‌আমরা নতুন নিয়ম গ্রহণ করব, যাতে মার্কিন কোম্পানিগুলো চীনে বিনিয়োগ বন্ধ করে এবং চীন আমেরিকা কিনে নিতে না পারে। আমরা এমন বিনিয়োগেরই অনুমতি দেব, যা স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় কাজ করবে।’

আরও